সর্বশেষ

বাংলাদেশে সব সিমের বর্তমান দাম ও রিপ্লেসমেন্ট চার্জ ২০২৬




বাংলাদেশের টেলিকম বাজারে বর্তমানে ৫টি মোবাইল অপারেটর গ্রাহকদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে: গ্রামীণফোন (GP), বাংলালিংক (Banglalink), রবি (Robi), এয়ারটেল (Airtel) এবং টেলিটক (Teletalk)। প্রতিটি অপারেটরের নতুন সিমের দাম, সিম প্রতিস্থাপন (Replacement) চার্জ এবং মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (MNP) চার্জের ক্ষেত্রে নিজস্ব কিছু আপডেট এসেছে।

২০২৬ সালের বর্তমান আপডেট অনুযায়ী বাংলাদেশের সকল অপারেটরের সিম সংক্রান্ত খরচের একটি বিস্তারিত তথ্যবহুল বিবরণ নিচে দেওয়া হলো।

১. গ্রামীণফোন (Grameenphone)

দেশের শীর্ষস্থানীয় এই অপারেটরটির অফলাইন এবং অনলাইন শপে নতুন সংযোগ ও প্রতিস্থাপন ফিতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে।
নতুন সিমের দাম: সাধারণ ফিজিক্যাল প্রিপেইড সিম (যেমন: নিশ্চিন্ত) এবং ই-সিম (eSIM) এর অফিশিয়াল দাম ৪০০ টাকা (এর সাথে বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্টার্টার বান্ডেল বা অফার যুক্ত থাকে)। প্রিমিয়াম বা পোস্টপেইড সংযোগের ক্ষেত্রে দাম ১,৪৯৯ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

সিম প্রতিস্থাপন (Replacement) চার্জ:

ফিজিক্যাল (প্লাস্টিক) সিম প্রতিস্থাপন ফি: ৩০০ টাকা (সাথে ট্যাক্স সহ মোট ৩৫৭.৫০ টাকা পর্যন্ত পড়তে পারে)। উল্লেখ্য, গোল্ড, প্ল্যাটিনাম ও সিগনেচার স্টার গ্রাহকদের জন্য এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।
ই-সিম (eSIM) প্রতিস্থাপন বা রি-ইস্যু ফি: ২৪৯ টাকা (ট্যাক্স সহ ৩০৬.৫০ টাকা)।
MNP চার্জ: অন্য অপারেটর থেকে গ্রামীণফোনে নম্বর ঠিক রেখে চলে আসতে (Port-In) সরকারি ফি ও ট্যাক্স মিলিয়ে মোট ৫৭.৫০ টাকা খরচ হয়।


আরো বিস্তারিত দাম জানুন গ্রামীণফোন ওয়েবসাইট থেকে।

২. রবি (Robi)

রবির অনলাইন শপ এবং কাস্টমার কেয়ার থেকে সিম সেবা নেওয়ার খরচগুলো বেশ সাশ্রয়ী ও সুনির্দিষ্ট।
নতুন সিমের দাম: রবির নতুন ফিজিক্যাল প্রিপেইড সিম কিংবা নতুন ই-সিম (eSIM) এর অফিশিয়াল দাম ২০০ টাকা।
সিম প্রতিস্থাপন (Replacement) চার্জ: আপনার রবি সিমটি হারিয়ে বা নষ্ট হয়ে গেলে ফিজিক্যাল সিম বা ই-সিম পরিবর্তন করতে ২২০ টাকা ফি দিতে হবে।
MNP চার্জ: অন্য যেকোনো অপারেটর থেকে রবির নেটওয়ার্কে আপনার বর্তমান নম্বরটি মাইগ্রেট বা পোর্টেবিলিটি করতে ২০০ টাকা চার্জ প্রযোজ্য (যার মধ্যে সিম ও বান্ডেল অফার অন্তর্ভুক্ত থাকে)।


৩. এয়ারটেল (Airtel)

রবির সহযোগী ব্র্যান্ড হিসেবে তরুণদের পছন্দের এই অপারেটরটির চার্জ ও ফি রবি’র সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
নতুন সিমের দাম: এয়ারটেলের নতুন প্রিপেইড ৪জি সিমের দাম ২০০ টাকা।
সিম প্রতিস্থাপন (Replacement) চার্জ: যেকোনো এয়ারটেল সিম (ফিজিক্যাল বা ই-সিম) প্রতিস্থাপন করার খরচ ২২০ টাকা।
MNP চার্জ: অন্য অপারেটর থেকে এয়ারটেলে নম্বর অপরিবর্তিত রেখে চলে আসার ফি ২০০ টাকা।

৪. বাংলালিংক (Banglalink)

গতিময় নেটওয়ার্কের দাবিদার বাংলালিংক নতুন সংযোগ এবং MNP গ্রাহকদের জন্য দারুণ সব বান্ডেল অফার দিচ্ছে।

নতুন সিমের দাম: বাংলালিংকের সাধারণ প্রিপেইড ৪জি সিম এবং ই-সিমের অফিশিয়াল দাম সাধারণত ৪০০ টাকা থেকে শুরু হয়।
সিম প্রতিস্থাপন (Replacement) চার্জ: বাংলালিংকের নষ্ট বা হারিয়ে যাওয়া সিম প্রতিস্থাপন ফি ৪২০ টাকা।
MNP চার্জ: বাংলালিংকে নম্বর ঠিক রেখে অন্য অপারেটর থেকে আসার (MNP Port-in) প্যাকেজ মূল্য ৪০০ টাকা। তবে এই টাকার বিপরীতে গ্রাহক বিশাল মেয়াদে (৩৬৫ দিন) স্পেশাল কলরেট (১ পয়সা/সেকেন্ড), ৩০ GB ডেটা এবং ৪০০ মিনিট টকটাইমের মতো আকর্ষণীয় ওয়েলকাম বোনাস পেয়ে থাকেন।



৫. টেলিটক (Teletalk)

রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র মোবাইল অপারেটর টেলিটক সবসময়ই সাধারণ ও স্টুডেন্ট প্যাকেজের জন্য বেশ সাশ্রয়ী ও জনপ্রিয়।
নতুন সিমের দাম: টেলিটকের সাধারণ প্রিপেইড সিম (যেমন: আগামী, বর্ণমালা বা অপরাজিতা) সংযোগের সরকারি মূল দাম সাধারণত ১০০ থেকে ১৫০ টাকা হয়ে থাকে। তবে রিটেইলার বা স্টার্টার ব্যালেন্সের ওপর ভিত্তি করে এটি ২০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
সিম প্রতিস্থাপন (Replacement) চার্জ: টেলিটকের সিম পরিবর্তনের সরকারি ফি সাধারণত ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ।

MNP চার্জ: টেলিটকের ক্ষেত্রেও বেসিক MNP সার্ভিস ফি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৫০ টাকা এবং এর সাথে ট্যাক্স ও নতুন সিম কিট মিলিয়ে মোট ১০০ থেকে ১৫ টাকা খরচ হতে পারে।

এক নজরে সব অপারেটরের খরচ (তুলনামূলক টেবিল)
অপারেটরের নাম     নতুন সিমের দাম (টাকা)     সিম প্রতিস্থাপন চার্জ (টাকা)     MNP চার্জ (টাকা)

গ্রামীণফোন:             ৪০০/-                         ৩০০/- (eSIM ২৪৯/-)             ৫৭.৫০/-
রবি + এয়ারটেল:      ২০০/-                          ২২০/-                                     ২০০/-
বাংলালিংক:              ৪০০/-                         ৪২০/-                                 ৪০০/- (মেগা বান্ডেলসহ)
টেলিটক:                  ১৫০/-                         ১৫০/-                                     ১৫০/-


জরুরি নোট:

১. সিম কেনা, প্রতিস্থাপন বা MNP করার জন্য গ্রাহকের আসল জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট (আঙুলের ছাপ) বাধ্যতামূলক।

২. রিটেইলার শপ বা লোকাল এজেন্ট পয়েন্ট থেকে সিম কিনলে এলাকা বা অফারভেদে মূল্যের সামান্য তারতম্য হতে পারে। সঠিক সরকারি মূল্যে সেবা পেতে অপারেটরগুলোর অফিশিয়াল কাস্টমার কেয়ার বা অনলাইন শপ ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ।

কোন মন্তব্য নেই