এক কাপ চা আর তুমি | একটি মিষ্টি প্রেমের ছোট গল্প

বৃষ্টির ক্যানভাসে তুমি
১. কফির ধোঁয়া এবং এক জোড়া চোখ
বিকেলের আকাশটা আজ অদ্ভুত এক মায়াবী রূপ ধারণ করেছে। মেঘের রঙে কোথাও নীলের ছোঁয়া, কোথাও আবার ধূসর আভা। ঠিক যেন কোনো দক্ষ শিল্পী তার তুলির শেষ আঁচড়টুকু দিয়ে ক্যানভাসটা সাজিয়ে রেখেছেন। শহরের ব্যস্ততম রাস্তার এক কোণে অবস্থিত ছোট্ট, নিরিবিলি ক্যাফে 'ক্যানভাস'। অনিকের প্রিয় জায়গা এটি, বিশেষ করে এই জানালার ধারের কোণের টেবিলটা। এখান থেকে বাইরের চঞ্চল শহরটাকে খুব সুন্দরভাবে দেখা যায়, অথচ ভেতরের পরিবেশটা একদম শান্ত।
অনিক কফির কাপে চুমুক দিল। ধোঁয়া ওঠা কফির সুবাস তার চশমার কাঁচে আলতো কুয়াশার সৃষ্টি করল। সে চশমাটা নামিয়ে টিস্যু দিয়ে মুছতে মুছতে ঘড়ির দিকে তাকাল। বিকেল সাড়ে চারটা বাজে। যার আসার কথা, সে এখনো এসে পৌঁছায়নি। অনিকের অবশ্য এই প্রতীক্ষায় কোনো ক্লান্তি নেই। কিছু মানুষের জন্য অপেক্ষা করার মধ্যেও এক ধরনের পরম আনন্দ থাকে।
ঠিক তখনই ক্যাফের কাঠের ভারী দরজাটা পুশ করে ভেতরে ঢুকল নীলা। দরজার ওপর ঝোলানো ছোট বেলটা টুং করে বেজে উঠল, যেন অনিকের হৃদয়ে এক অদ্ভুত সুর তুলে গেল।
নীলাকে দেখলেই অনিকের মনে হয়, সমস্ত ক্লান্তি এক নিমেষে উধাও হয়ে গেছে। আজ নীলা পরেছে একটা সুতি নীল শাড়ি, ঠিক যেন বিকেলের ওই আকাশের এক টুকরো অংশ। চুলে আলগা একটা খোঁপা, আর কপালে একটা ছোট্ট কালো টিপ। চোখে কোনো কাজল নেই, কিন্তু ওই সাধারণ চোখের চাউনিতেই যেন এক অদ্ভুত জাদু আছে।
নীলা দ্রুত পায়ে হেঁটে অনিকের সামনের চেয়ারটায় এসে বসল। তার কপালে হালকা ঘামের বিন্দু, আর মুখটা একটু অপরাধবোধে মলিন। ধপ করে বসে ব্যাগটা পাশে রেখে সে বলল, "প্রচণ্ড জ্যাম ছিল অনিক! শাহবাগ মোড়ে গাড়ি একদম নড়ছিলই না। অনেকক্ষণ ধরে বসে আছো, তাই না? খুব রাগ করেছ?"
অনিক চশমাটা আবার চোখে পরে নিল। নীলার মুখের দিকে তাকিয়ে তার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠল। সে কফির কাপটা আলতো করে টেবিলের ওপর নামিয়ে রাখল। তারপর নীলার চোখের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল, "তোমার এই ব্যস্ত, হাঁপাতে থাকা আর আমার জন্য ছুটে আসা সুন্দর মুখটা দেখার জন্য আমি অনন্তকাল অপেক্ষা করতে পারি, নীলা। এ তো মাত্র আধঘণ্টা। এই অপেক্ষাটুকু তো আমার পরম পাওনা।"
নীলা চোখ বড় বড় করে তাকাল। তার মুখের সেই অপরাধবোধের মেঘ কেটে গিয়ে সেখানে এক চিলতে রোদ্দুর হাসির রেখা দেখা দিল। সে একটু হেসে বলল, "উফ! তোমার এই কবি কবি কথা না! জাস্ট দারুণ পারো মানুষকে ভোলাতে। আমি ভাবলাম আজ নির্ঘাত বকুনি খাবো।"
মুখে যাই বলুক, নীলার ফর্সা গালে যে লজ্জার একটা হালকা লাল আভা ফুটে উঠল, তা অনিকের তীক্ষ্ণ চোখ এড়াল না। অনিক মনে মনে ভাবল, এই একটি মুহূর্তের জন্য সে প্রতিদিন, প্রতি যুগে অপেক্ষা করতে রাজি।
২. এলাচি চায়ের সুবাস এবং কিছু অব্যক্ত কথা
ইতিমধ্যে ক্যাফের পরিচিত ওয়েটার রনি এসে হাজির হলো। সে জানে এদের পছন্দ কী। অনিকের জন্য আরও এক কাপ ব্ল্যাক কফি আর নীলার জন্য এক কাপ ধোঁয়া ওঠা বিশেষ এলাচি চা দিয়ে গেল।
নীলা চায়ের কাপটা দুই হাতে জড়িয়ে ধরল। গরম কাপের ওম যেন তার হাত দুটোকে আরাম দিচ্ছিল। সে এক চুমুক দিয়ে চোখ বন্ধ করে বলল, "আহ! এই জ্যামের পর এই চা টা না পেলে আজ আমি মরেই যেতাম।"
অনিক হাসল, "মরবে কেন? বেঁচে থাকো। আমার জন্য হলেও বেঁচে থাকতে হবে তোমার।"
নীলা চায়ের কাপটা নামিয়ে টেবিলের ওপর দুই হাত রাখল। অনিকের দিকে ঝুঁকে এসে একটু গম্ভীর গলায় বলল, "আচ্ছা অনিক, আমাদের যদি কখনো খুব বড় কোনো ঝগড়া হয়, আর আমি যদি রাগ করে, অভিমান করে অনেক দূরে চলে যাই... যেখানে তুমি আমাকে সহজে খুঁজে পাবে না, তখন তুমি কী করবে?"
অনিকের মুখের হাসিটা একটু মিলিয়ে গেল, তবে তা ক্ষণিকের জন্য। সে টেবিলের ওপর রাখা নীলার হাতটার ওপর নিজের ডান হাতটা রাখল। অনিকের হাতটা একটু খসখসে, আর নীলার হাতটা তুলোর মতো নরম। সে নীলার আঙুলগুলোর ফাঁকে নিজের আঙুলগুলো আলতো করে গলিয়ে দিল। এক অদ্ভুত ভরসার বন্ধন তৈরি হলো সেখানে।
অনিক নীলার চোখের গভীরে তাকিয়ে বলল, "প্রথমত, আমি তোমার সাথে কোনোদিন সেই পর্যায়ের ঝগড়াই করব না যাতে তুমি দূরে চলে যাও। আর দ্বিতীয়ত, যদি কোনো কারণে তুমি অভিমান করে চলেও যাও, আমি তোমার পিছু পিছু হাঁটব। তুমি রাগ করে যতো জোরেই হাঁটো না কেন, আমি তোমার ঠিক এক হাত দূরত্বে পেছনে থাকব। তুমি যখনই রাগ সামলে পেছন ফিরে তাকাবে, দেখবে আমি সেখানেই দাঁড়িয়ে আছি। কারণ, তুমি ছাড়া আমার আর কোথাও ফিরে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই, নীলা। আমার সমস্ত গন্তব্য তোমাতেই শুরু, তোমাতেই শেষ।"
নীলা স্তব্ধ হয়ে গেল। অনিকের কথার ভেতরের যে গভীরতা, যে তীব্র ভালোবাসা, তা তার বুকের ভেতরটা এক অদ্ভুত আলোড়নে কাঁপিয়ে তুলল। সে কিছু বলতে চাইল, কিন্তু তার গলা দিয়ে কোনো শব্দ বের হলো না। তার চোখের কোণে এক ফোঁটা জল চিকচিক করে উঠল। ভালোবাসার এই তীব্রতা মাঝে মাঝে মানুষকে নির্বাক করে দেয়। সে আলতো করে অনিকের হাতে একটু চাপ দিল, যেন বলতে চাইল—'আমিও তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাবো না।'
৩. বৃষ্টি এবং একটি ছাতার নিচে দুটি মন
ক্যাফের ভেতরের আবহটা তখন আরও রোমান্টিক হয়ে উঠেছে। স্পিকারে খুব হালকা সাউন্ডে লতা মঙ্গেশকরের একটা পুরনো গান বাজছে। ঠিক তখনই জানালার কাচে একটা মৃদু শব্দ হলো। 'টুপ'। তারপর 'টাপ'।
অনিক আর নীলা দুজনেই জানালার বাইরে তাকাল। শহরের ধুলোবালি মাখা রাস্তাটা নিমেষেই ভিজতে শুরু করেছে। আকাশটা আরও কালো হয়ে এসেছে, আর মেঘের ডাক জানান দিচ্ছে—আজ বৃষ্টি সহজে থামবে না। গরম পিচের ওপর বৃষ্টির ফোঁটা পড়তেই একটা সোঁদা গন্ধ বাতাসে ভেসে এল।
নীলা জানালার কাচে হাত রাখল। তার চোখ দুটো বাচ্চার মতো চকচক করে উঠল। সে অনিকের দিকে তাকিয়ে প্রায় ফিসফিস করে বলল, "অনিক, দেখেছ? বৃষ্টি নামল! আমার ভীষণ প্রিয় বৃষ্টি।"
"আমি জানি," অনিক হাসল। "তোমার প্রিয় বলেই তো আজ মেঘেরা ঠিক সময়ে হাজির হয়েছে।"
নীলা চায়ের শেষ চুমুকটা দিয়ে ব্যাগটা কাঁধে তুলে নিল। চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে বলল, "চলো, আজ আমরা একটু বৃষ্টিতে ভিজব। অনেকদিন বৃষ্টিতে ভেজা হয় না। নাগরিক জীবন আমাদের রোমান্টিকতাটাই কেড়ে নিচ্ছে।"
অনিক একটু ইতস্তত করে বলল, "কিন্তু তোমার তো ঠাণ্ডা লাগার ধাত আছে নীলা। ভিজলে যদি জ্বর আসে?"
"আসুক জ্বর! জ্বরের ঘোরে তোমার হাতের সেবা পাওয়ার লোভটাও কিন্তু কম নয়," নীলা দুষ্টুমিভরা চোখে তাকিয়ে বলল।
অনিক আর না করতে পারল না। সে বিল মিটিয়ে ক্যাফে থেকে বের হয়ে এল।
বাইরে তখন মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হচ্ছে। অনিকের হাতে একটা কালো রঙের ছাতা ছিল। সে ছাতাটা খুলতে চাইল, কিন্তু নীলা তার হাতটা চেপে ধরল। "না অনিক, আজ ছাতাটা থাক না বন্ধ। প্রকৃতির এই উপহারটাকে ছাতা দিয়ে আড়াল কোরো না।"
অনিক ছাতাটা বন্ধই রাখল। দুজনে একসাথে ফুটপাত ধরে হাঁটতে শুরু করল। বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটা তাদের ভিজিয়ে দিতে লাগল। অনিকের চশমাটা জলে ঝাপসা হয়ে যাচ্ছিল, সে চশমাটা খুলে পকেটে রেখে দিল। এখন পৃথিবীটা তার কাছে একটু ঝাপসা, কিন্তু তার পাশে থাকা মানুষটা একদম স্পষ্ট, একদম বাস্তব।
তারা হাঁটছিল হাত ধরাধরি করে। শহরের মানুষজন মাথা বাঁচাতে এদিক-ওদিক ছুটছে, কেউ দোকানের শেডের নিচে দাঁড়াচ্ছে, কেউ রিকশার হুড তুলে দিচ্ছে। কিন্তু এই ব্যস্ততার মাঝেও অনিক আর নীলা যেন এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপের বাসিন্দা। তাদের কোনো তাড়া নেই, কোনো গন্তব্যে পৌঁছানোর তাগিদ নেই। শুধু একসাথে থাকাটাই যেন তাদের একমাত্র লক্ষ্য।
৪. স্মৃতির পাতায় ফিরে দেখা
হাঁটতে হাঁটতে তারা একটা বড় কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে এসে দাঁড়াল। গাছের ঘন পাতাগুলো বৃষ্টির বেগটাকে কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে, কিন্তু পুরোপুরি আটকাতে পারছে না। পাতা বেয়ে টুপটুপ করে জল নামছে।
নীলা তার শাড়ির আঁচলটা একটু ঠিক করে অনিকের দিকে তাকাল। অনিকের চুলগুলো ভিজে কপালে লেপ্টে আছে। শার্টটা পুরোপুরি ভেজা। নীলা হাত বাড়িয়ে অনিকের কপাল থেকে ভেজা চুলগুলো সরিয়ে দিল। তার হাতের আঙুলের স্পর্শ অনিকের চামড়ায় এক মৃদু বিদ্যুত তরঙ্গ বয়ে নিয়ে গেল।
"মনে আছে অনিক, আমাদের প্রথম দেখার দিনটার কথা?" নীলা মৃদু হেসে জিজ্ঞেস করল।
"কীভাবে ভুলব?" অনিক স্মৃতির পাতায় ডুব দিল। "সেদিনও ঠিক এই রকমই একটা বৃষ্টির দিন ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের বারান্দায় আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম একটা অ্যাসাইনমেন্ট হাতে নিয়ে। আর তুমি হুট করে বৃষ্টি থেকে বাঁচতে দৌড়ে এসে আমার গায়ের ওপর প্রায় পড়েই গিয়েছিলে। তোমার হাতের বইগুলো সব নিচে পড়ে গিয়েছিল।"
নীলা খিলখিল করে হেসে উঠল, "হ্যাঁ! আর তুমি এমন হড়বড়ে গিয়েছিলে যে বইগুলো তুলতে গিয়ে নিজের চশমাটাই নিচে ফেলে দিয়েছিলে। তারপর চশমা ছাড়া অন্ধের মতো বই খুঁজছিলে। কী যে বোকা লাগছিল তোমাকে সেদিন!"
"বোকা তো হবই," অনিক একটু আদুরে গলায় বলল। "সামনে যদি এমন একটা রূপবতী মেয়ে হুট করে এসে হাজির হয়, তবে যেকোনো ছেলেরই চশমা কেন, মাথার বুদ্ধিও হারিয়ে যাওয়ার কথা। সেদিন তোমার ওই ভেজা চুল আর চোখের চাউনি দেখেই আমি আমার মনটা কার্জন হলের ওই লাল ইটের দেওয়ালে বন্দি করে এসেছিলাম।"
নীলা অনিকের বুকের ওপর মাথা রাখল। বৃষ্টির শব্দের মাঝেও সে অনিকের হৃদপিণ্ডের দ্রুত স্পন্দন শুনতে পাচ্ছিল। সে অনিকের কোমর জড়িয়ে ধরে বলল, "জানিনা আমি কতটা ভাগ্যবতী, কিন্তু ঈশ্বর আমাকে তোমার মতো একজন মানুষকে দিয়েছেন, যে আমার সব পাগলামি, সব খামখেয়ালিপনাকে এভাবে ভালোবেসে আগলে রাখে।"
অনিক নীলাকে আরও শক্ত করে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরল। তার মনে হলো, এই বৃষ্টির ফোঁটাগুলো আসলে জল নয়, এগুলো যেন আকাশ থেকে ঝরে পড়া ঈশ্বরের আশীর্বাদ, যা তাদের ভালোবাসাকে আরও পবিত্র, আরও দীর্ঘস্থায়ী করে তুলছে।
৫. ভালোবাসার অনন্ত পথচলা
বৃষ্টির বেগ আস্তে আস্তে কমে এল। শহরের আকাশটা এখন একটু পরিষ্কার, কিন্তু রাস্তাঘাট জলে থৈথৈ করছে। নিয়ন আলোগুলো জ্বলতে শুরু করেছে, আর সেই আলো ভেজা রাস্তায় প্রতিফলিত হয়ে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করেছে।
অনিক নীলার হাত ধরে আবার হাঁটতে শুরু করল। এবার তারা একটা রিকশা ডাকল। রিকশার হুডটা ফেলাই রইল। সন্ধ্যার শীতল হাওয়া তাদের ভেজা শরীরে কাঁপন ধরাচ্ছিল, কিন্তু তাদের হাতের উষ্ণতা সেই ঠাণ্ডাকে দূরে রাখছিল।
রিকশায় বসে নীলা অনিকের কাঁধে মাথা রাখল। সে বলল, "অনিক, জীবনটা যদি এই রিকশাটার মতোই হতো? কোনো থামাথামি নেই, শুধু তুমি আর আমি অন্তহীন একটা রাস্তা ধরে চলতেই থাকব।"
অনিক নীলার কপালে আলতো করে একটা চুমু খেল। সেই চুম্বনে কোনো কামনার ছোঁয়া ছিল না, ছিল এক পরম শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। সে বলল, "জীবনটা তো এমনই, নীলা। আমাদের পথচলা হয়তো এই রিকশায় শেষ হবে না, কিন্তু মনের যে পথচলা, তা কোনোদিন থামবে না। সুখ আসবে, দুঃখ আসবে, ঝোড়ো হাওয়া আসবে, কিন্তু আমার এই কাঁধটা সবসময় তোমার মাথা রাখার জন্যই বরাদ্দ থাকবে।"
নীলা চোখ বন্ধ করল। এক পরম তৃপ্তি তার সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ল। সে মনে মনে প্রার্থনা করল, এই বিকেল, এই বৃষ্টি, আর এই মানুষটা যেন তার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ঠিক এভাবেই পাশে থাকে।
শহরের কোলাহল, গাড়ির হর্ন, মানুষের ব্যস্ততা—সবকিছু যেন এক নিমেষে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের মতো মিলিয়ে গেল। রয়ে গেল শুধু দুটি হৃদয়, এক কাপ এলাচি চায়ের সুবাস, আর বৃষ্টির ক্যানভাসে আঁকা তাদের এক অমর, মিষ্টি প্রেমের গল্প। ভালোবাসার এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই তো জীবনকে সুন্দর করে তোলে, আর অনিক ও নীলার গল্পটা ঠিক তেমনই এক সুন্দরের প্রতীক হয়ে রইল বিকেলের ওই শান্ত আকাশে।
কোন মন্তব্য নেই